নব বিবাহিত যুগলদের যে ভুলগুলো মোটেও করা উচিত নয়!

নিশীতা মিতু, লাইফস্টাইল ফিচার এডিটর, অনলাইন আপডেট। বিয়ে, জীবনের এক নতুন অধ্যায়। নিশ্চয়ই, প্রতিটা মানুষ চায় তার এই নতুন জীবনের সুখটুকু সবার সাথে ভাগ করে নিতে। তবে সদ্য বিবাহিত যুগলরা মাঝে মাঝে কিছু ভুল কাজও করে ফেলেন। যে ভুলগুলো পরবর্তীতে হয়ত বড় ধরণের ভুলের সৃষ্টি করে। চলুন আজ আলোচনা করা যাক নব বিবাহিত যুগলদের করা তেমন কিছু ভুল নিয়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত ছবি দেয়াঃ বিয়ে অনেক সুখের অনুভূতি। আপনার হয়ত ইচ্ছে করবে বহুতল ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে এই সংবাদটা সবাইকে জানাতে। আর সেই ইচ্ছাপূরণ করতে অনেক যুগলই ফেসবুককে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন।

আপনার বিয়ে সংক্রান্ত যাবতীয় অনুষ্ঠানের ছবি নিশ্চয়ই আপনার জীবনের মধুর স্মৃতি। সেই স্মৃতিটা না হয় নিজেদের মাঝেই থাকুক। একবার ভাবুন তো প্রতি অনুষ্ঠানের ১০০টি করে ছবি মিলিয়ে যদি আপনি ফেসবুকে ৫০০/৬০০টি বিয়ের ছবি ফেসবুকে আপ্লোড করেন তা কি আপনার বন্ধুদের বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়াবে না? অনেককে দেখা যায় ৩০/৪০টি করে ছবি প্রায় বছর খানেক ধরে আপ্লোড করতে থাকেন। এটাও অন্যদের বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়ায়।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা উপদেশ দেন, আপনার বিয়ে সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য যতটা পারেন ছোট এবং পরিমার্জিত রাখবেন। এটি আপনার বৈবাহিক জীবনকে সুন্দর ও মার্জিত হিসেবে প্রকাশ করবে।

বেশ ভালো হয় বিয়ে সংক্রান্ত ২/৩টি পোষ্ট দিন আর ১৫/২০টি ছবি দিন। ব্যাস, এর বেশি ছবি না দেয়াই উত্তম। অনেক নব বিবাহিত দম্পতিকে দেখা যায় বিয়ের পর প্রায় সব ধরণের আপডেট ফেসবুকে দেন। কোথায় গেলেন, কি খেলেন, কি রান্না করা হল… এ ধরণের ছোটখাটো সুখের মুহূর্তগুলোকে নিজেদের মাঝেই রাখতে চেষ্টা করুন। অন্যদের না জানানোই উত্তম।

হঠাৎ করে তুমি, আমি থেকে আমরা হয়ে যাওয়াঃ বিয়ে বলতে দুজন মানুষের বন্ধনকে বোঝানো হয়। দুজন ভিন্ন মানুষ একসাথে চলতে শুরু করে। তবে তাই বলে, ভুলে গেলে চলবেনা দুজন মানুষের দুটি ভিন্ন সত্ত্বা রয়েছে। অনেক নব বিবাহিত দম্পতিকে দেখা যায় হুট করে তুমি আমি থেকে সবকিছুতেই আমরা হিসেব করা। নিঃসন্দেহে এটি বড় ধরণের একটি ভুল।

আপনার কিছু নিজস্ব পছন্দ বা ভালোলাগা থাকতে পারে, আপনার সঙ্গীরও নিজের কিছু আলাদা পছন্দ থাকতে পারে। হঠাৎ করে আপনার সব পছন্দ তার উপর চাপিয়ে দিতে যাবেন না। এর চেয়ে বরং তাকে বুঝুন। কিছু সময় নিজে একা থাকুন, তাকেও একা থাকতে দিন।

বিভিন্ন গবেষণা থেকে এই বিষয় প্রমাণিত হয় যে যারা বিবাহিত জীবনের প্রথমে নিজের পছন্দ অন্যের উপর না চাপিয়ে দুজনের পছন্দকে আলাদা আলাদা ভাবে মূল্যায়ন করে তারা পরবর্তীতে সুখে থাকে।

শ্বশুর বাড়ির লোকদের বদনাম করাঃ এ কাজটা মূলত নারীরাই বেশি করে থাকেন। এবং এর মূল কারন শাশুড়ি বা ননদের সাথে বনিবনা না হওয়া। নব বিবাহিতদের একটা বড় অংশ যে ভুলটি করে থাকেন তা হল শ্বশুর বাড়ির লোকেদের বদনাম করা।

অনেকে আরো এক ধাপ এগিয়ে থাকেন। দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্বশুর বাড়ির মানুষদের নিয়ে বিরক্তি বা অভিযোগ প্রকাশ করেন। থামুন! আপনি এখন বিবাহিত। এই কথাটা আপনার মনে রাখা উচিত। অন্যের কাছে তাদের খারাপ দিক প্রকাশ না করে নিজেরা ঝামেলা মিটিয়ে নিতে চেষ্টা করুন।

যদি ব্যাপারটা এমন হয় যে কিছুতেই বনিবনা হচ্ছে না তবে পরিবারের বড়দের ডেকে আলোচনা করুন। উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন। কিন্তু তাই বলে স্বামী বা অন্য মানুষের কাছে শ্বশুর বাড়ির লোকেদের নিন্দা করা থেকে বিরত থাকুন।

বিয়ে সম্পর্কটি সবসময়ই সুন্দর। নিজেদের ভুলের কারনে সেই সম্পর্কটিকে হাসির পাত্র করে তুলবেন না। মনে রাখবেন, কিছু ব্যাপার একান্তই নিজেদের। সেখানে ৩য় কারোর উপস্থিতি যেমন বেমানান তেমনি নিজেদের মুহূর্তগুলো অন্যদের জানানোটাও বেমানান।

Facebook
Twitter
WhatsApp